ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬ , ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​রাজশাহী নগরীর রামচন্দ্রপুর বৌ-বাজারে দ্বিগুণ খাজনা আদায়ের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস রাসিক কর্তৃপক্ষের

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-০২ ২৩:৩৪:১৩
​রাজশাহী নগরীর রামচন্দ্রপুর বৌ-বাজারে দ্বিগুণ খাজনা আদায়ের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস রাসিক কর্তৃপক্ষের ​রাজশাহী নগরীর রামচন্দ্রপুর বৌ-বাজারে দ্বিগুণ খাজনা আদায়ের অভিযোগ, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস রাসিক কর্তৃপক্ষের
নিজ¯^ প্রতিবেদক রাজশাহী:


রাজশাহী মহানগরীর রামচন্দ্রপুর বৌ-বাজারে দ্বিগুণ খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ইজারাদার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে| বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল ১১ টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দোকানীদের সাথে কথা বলে বলে জানা যায়, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) নির্ধারিত খাজনার বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে|


রাসিক আওতাধীন রামচন্দ্রপুর বৌ-বাজারের ২০২৬ সালে ৬লাখ ১৫ হাজার ৪৪৪/-টাকা ইজারা নিয়েছেন আমিনুল ইসলাম| তিনি জামানতের ৪ভাগের এক ভাগ টাকা জমা দিয়েছেন| অবশিষ্ট অর্থ ৭কর্ম দিবসের মধ্যে দিতে হবে| 
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গড়ে দোকান প্রতি ৪০-৫০ টাকা করে খাঁজনা আদায় করছেন ইজারাদার|
বৌ-বাজারে মাছ ব্যবসায়ী ভদু বলেন, আমি এই বাজারে প্রায় ১৭ বছর থেকে ব্যবসা করছি| যখন প্রথম এই বাজারে ব্যবসা শুরু করেছিলাম তখন ৫ টাকা করে দিতাম, একবছর আগে ২০ টাকা দিতাম| ইজারার চার্টে মাছ ব্যবসায়ীর ২০টাকা ইজারা থাকলেও ৪০ টাকা করে দিতে হচ্ছে| আবার কোন রশিদ ও দিচ্ছেন না ইজারাদার| 

সবজি বিক্রেতা নারী মোসাঃ আমিনা বলেন, প্রায় ১০ বছর থেকে এই বাজারে ব্যবসা করে আসছি| প্রতিদিন ১০০০ টাকার মাল কিনে নিয়ে আসি| ২০০-৩০০ টাকা লাভ হয়| আর এই লাভ থেকেই খাজনার টাকা ও দোকান ভাড়া দিতে হয়| তবে ১ বছর আগেও ১০-১৫ টাকা করে খাজনা দিতাম এখন ইজারার চার্টে সবজি ১৬টাকা থাকলেও এই ইজারাদার আমার কাছ থেকে ৪০ টাকা করে খাজনা নিচ্ছে| 

সবজি বিক্রেতা নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি এই বাজারে প্রায় ১৭ বছর যাবৎ ব্যবসা করছি| প্রথমে ৩ টাকা করে খাজনা দিতাম এরপর ৫ টাকা, এরপর ৮টাকা পরে ১০ টাকা| গত বছর ১৫ টাকা করে চাঁদা দিতাম কিন্তু এখন ৪০ টাকা দিতে হচ্ছে|  বৌ বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, এক বছরের ব্যবধানে আমাদের আয়-রোজগার দ্বিগুণ হয়নি| কিন্তু রাসিকের নির্ধারণ করে দেয়া ইজারার তালিকা উপেক্ষা করে আমাদের কাছে খাজনা দ্বিগুণেরও বেশি নেয়া হচ্ছে| দোকানীরা আরও বলেন, এই বাড়তি খাজনা আমাদের জন্য অতিরিক্ত হয়ে গেছে| আমরা ¯^ল্প পুঁজির ব্যবসায়ী, তাই তো রাস্তার পাশে ধুলা ময়লার মধ্যে বসে কাঁচা মাল বিক্রি করছি| 

নতুন ইজারাদারের কাছে আমরা অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু তিনি আমাদের সাথে মারমুখি আচরণ করেছেন এবং হুমকি দিয়ে বলেছেন টাকা দিতে না পারলে চলে যাও| আবার সরকারি রশিদ চাইলেও তিনি দেন না|  
তারা আরও বলেন, ইজারাদারের পরিচিত লোকজনের কাছে ১৫-২০ টাকা নিচ্ছেন| ফলে আমাদের বেঁচা-কেনাও কমে গেছে| 

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রিটনের কাছে আকুতি জানিয়ে এই দোকানি বলেন, তিনি যেন এই খাজনা কমিয়ে আমাদের সাধ্যের মধ্যে নিয়ে আসেন|
বাড়তি খাজনা তোলার বিষয়ে জানতে চাইলে ইজারাদার আমিনুল ইসলাম বলেন, গতবারের তুলনায় এইবার অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে টেন্ডার নেওয়া| তাই দোকান প্রতি ৩০-৪০ টাকা খাজনা তুলছি| এই ৩০-৪০ টাকা একটা দোকানির কাছে সামান্য বলে আমি মনে করি| এতে তাদের সমস্যা হওয়ার কথা না বলেও জানান তিনি|
এ বিষয়ে রাসিক রাজ¯^ শাখার আবু সালেহ মোঃ নূর-ই-সাঈদ বলেন, টেন্ডার হওয়ার পর থেকেই এই বাড়তি খাজনার বিষয়ে আমরা অভিযোগ শুনছি| তবে যদি ব্যবসায়ীরা গণ¯^াক্ষর দিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন, তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি|

রাসিক সচিব সোহেল রানা বলেন, ইজারার টাকা ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে| যদি পরিশোধ, না করে তবে তা অবৈধ হিসাবে গণ্য হবে|
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত খাঁজনা আদায় করার অনুমতি নেই| রামচন্দ্রপুর বাজারে নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত ইজারা আদায় করা হলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে| এক্ষেত্রে তার ইজারা বাতিল ও হয়ে যেতে পারে|
রাসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বলেন, বৌ-বাজার থেকে অতিরিক্ত ইজারা আদায় করা হলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|#

নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ